জীবনের চলার পথে বহু ঘাত পতিঘাতের সম্মুখিন হলেও, আপন্নতের উপভোগ এক অনন্নতা সৃষ্টি করে। কোন কিছুকে একান্ত আপন করে পাওয়ার আনন্দ তেমনি অনন্নতার রুপক। এক নিরবিছিন্ন জীবনের সুখের প্রলেপ এতটাই ক্ষীণ যে অল্পতেই ঘনীভূত হয়ে নিজ অস্তিতের লয় করে। আজকের ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু তুহিন , ক্লাসের সব থেকে নড়বড়ে ছেলে। সবার পিছনে দাঁড়িয়ে সবার হ্যাঁ তে হ্যাঁ মিলানো ওর গুণ ছিল। নিজের মত দেওয়ার চেষ্টা করার কথা ভাবনাতে আসলেও প্রকাশ করার ক্ষমতা ছিল না; কারণ তাঁকে সবার সামনে অপদস্ত হতে হয়েছিল আগেরবার। তাই আর সাহস করে বলে উঠতে পারেনি। নিজের মনের কথা গুল চেপে রেখে দিত, ভয় ছিল যদি কারোকে বলি আর সেটা নিয়ে কেউ উপহাস করে বসে, তাই নিজের মধ্যে বাঁচতে শুরু করেছিল। এই ভাবেই কেটে গেল কতগুলো বছর। চুপ করে থাকাটা এক সময় অভ্যাসে পরিণত হল। দিন দিন সে উপলব্ধি করতে থাকে যে তার উপস্থিত গুণ আর অর্জিত জ্ঞান কোন কাজের উপযোগী না। হয়তো তার জীবনের পরন্ত গোধূলির উপস্থিতি ক্ষণিক দূরে বাস করছে। পড়াশুনাটাও ততোটা ভাল চলছিলো না। পড়াশুনা থেকে সড়ে দাঁড়ানোর ইচ্ছা থাকলেও ক্ষমতা ...
এ অভিযোগ শেষ হওয়ার না -- কেন জানো? তুমি আমার একমাত্র পছন্দ হওয়া সত্বেও আমি বোধ হয় তোমার পছন্দের নিরিখের বিবেচনাধীন ব্যক্তিবর্গের অধীন ছিলাম । হ্যাঁ, আজ তুমি হয়তো বেশ খুশি। কিন্তু , আমার অবস্থানের পরিবর্তন যে হয়নি এটা বলা অন্যায় হবে! প্রত্যহ সকালে যখন বিছানার পাশের জানালা দিয়ে দেখি, সূর্যের উজ্জ্বল রশ্মি নতুন দিনের সূচনা করছে, ঠিক তখনই নীল আকাশের নিচে এক নতুন পথের সূচনাও করে, যা আমার প্রহসনময় জীবনে আশার আলো দেখায়। কিন্তু পুরনো কিছু স্মৃতি উর্বর ভাবনায় আগুন জ্বালিয়ে মোর ব্যক্তিসত্তাকে ধীরে ধীরে নিজের কাছে উপহাসময় করে তুলেছে। তবে আজ উপহাসময় ব্যক্তিত্বহীন সেই আমি, সীমাহীন সমুদ্রে একাকীত্বের সঙ্গী হয়ে নিজেকে চিনতে শিখছি। হ্যাঁ, এ অনন্য এক পাওয়া।। সিদ্ধান্ত না হয় তুমিই নিও। আমি না হয় কলমের মোড়কে আঁকড়ে ধরে অন্ধকার একাকীত্বের সঙ্গী হয়ে গেলাম। দু - প্রহরের অবসান কিন্তু গোধূলির আগমনের বার্তা নিয়ে আসে। তাই যুগের সাথে তাল মিলিয়ে নিয়ে পরন্ত গোধূলির আগমনের অপেক্ষায় পথ চেয়ে রইলাম।।। কলমে: সেলিম
প্রথম খণ্ড পাঠের জন্য ক্লিক করুন ঃ https://salimworld1.blogspot.com/2024/12/blog-post.html কিন্তু জীবনের পথ কখনো একরৈখিক হয় না। তুহিনের জীবনে শিল্পার আগমন যেমন বসন্তের উষ্ণতা এনেছিল, তেমনি কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটনা তার মনের আকাশে মেঘের ছায়া ফেলতে শুরু করল। শিল্পার সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত তুহিনের জন্য ছিল এক নতুন জীবনের স্বপ্ন। তারা একসঙ্গে কলেজের লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করত, ক্যাম্পাসের পুরনো গাছের ছায়ায় বসে ভবিষ্যতের কথা বলত। শিল্পার হাসি আর তার সরল কথাবার্তা তুহিনের মনের গভীরে এক অজানা শক্তি জাগিয়ে তুলেছিল। সে প্রথমবারের মতো নিজের উপর ভরসা করতে শিখছিল। পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ল, ক্লাসে সে আগের মতো পিছনের সারিতে লুকিয়ে থাকত না। শিল্পার উৎসাহে সে এমনকি একটি কলেজের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিল, যেখানে তার কবিতা পড়া সবাইকে মুগ্ধ করেছিল। কিন্তু সুখের এই ঝলকানি বেশিদিন স্থায়ী হল না। শিল্পার পরিবার হঠাৎ তাদের ব্যবসার কারণে অন্য শহরে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। শিল্পা তুহিনকে বলেছিল, “তুমি আমার জন্য যা করেছ, তা আমি কখনো ভুলব না। তুমি আমাকে শিখিয়েছ যে সরলতার মধ্যেও এক...
Comments